পূর্ব গেট কেন এত পরিচিত?
বায়তুল মোকাররমের পূর্ব গেট শুধু একটি প্রবেশপথ নয়; দীর্ঘদিন ধরে এটি বইপ্রেমী ও ইসলামী সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে একটি পরিচিত মিলনস্থল। বিশেষ করে যখন মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামী বইমেলার আয়োজন করা হয়, তখন পূর্ব গেট ও এর আশপাশের অংশ পাঠকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের ইসলামী বইমেলার সংবাদেও বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ গেটের মেলা প্রাঙ্গণে তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী পাঠকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পূর্ব গেটের সঙ্গে ইসলামী বইমেলার সম্পর্ক কেবল সাম্প্রতিক কোনো আয়োজনের বিষয় নয়; বিভিন্ন বছর বিভিন্ন পরিসরে এই অংশটি মেলার সঙ্গে যুক্ত থেকেছে।
পূর্ব গেট থেকে বইমেলায় প্রবেশ
বায়তুল মোকাররমে ইসলামী বইমেলার আয়োজন হলে পূর্ব গেট অনেক দর্শনার্থীর জন্য মেলায় প্রবেশ ও স্টল খোঁজার একটি সুবিধাজনক পয়েন্ট হয়ে ওঠে। বড় পরিসরে মেলা আয়োজন করা হলে স্টলগুলো একাধিক দিকে বিস্তৃত থাকে।
২০২৫ সালের আয়োজনে এই বিস্তৃতি আরও বড় করা হয়েছিল—পূর্ব গেট থেকে দৈনিক বাংলা মেইন রোড পর্যন্ত মেলার পরিসর বাড়ানো হয়। এর ফলে দর্শনার্থীরা তুলনামূলক বড় জায়গায় বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টল ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
পূর্ব গেটের বইমেলা মানেই ইসলামী বইয়ের বিশাল জগৎ
পূর্ব গেটসংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণে যখন ইসলামী বইমেলা বসে, তখন পাঠকদের সামনে ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বই দেখার সুযোগ তৈরি হয়। সাধারণত এ ধরনের মেলায় পাওয়া যায়—
কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির
হাদিস ও হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ
সীরাত ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
আকিদা ও ফিকহ
আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিকতা
দাওয়াহ ও সমকালীন ইসলামী চিন্তা
ইসলামী গবেষণাধর্মী গ্রন্থ
শিশু-কিশোরদের ইসলামী বই
ইসলামী সাহিত্য ও উপন্যাস
নতুন লেখকদের প্রকাশিত বই
২০২৫ সালের মেলায়ও কুরআন-হাদিস, ইসলামী গবেষণা, সমকালীন চিন্তাধারা, শিশুদের বই, সাহিত্য ও ইতিহাসের বিভিন্ন বইয়ের বড় সংগ্রহ ছিল।
শুধু বইয়ের স্টল নয়, একটি পাঠকসমাজ
পূর্ব গেটকেন্দ্রিক বইমেলার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো—এখানে পাঠক শুধু বই কিনতে আসেন না; তাঁরা বই দেখতে, নতুন প্রকাশনা সম্পর্কে জানতে এবং নিজেদের পছন্দের বই খুঁজতে আসেন। একজন পাঠক হয়তো ইতিহাসের বই খুঁজছেন, অন্যজন সীরাতের বই; কেউ আত্মশুদ্ধির বই, কেউ সন্তানদের জন্য ইসলামী বই, আবার কেউ উপহার দেওয়ার মতো সুন্দর কোনো গ্রন্থ খুঁজছেন। একই জায়গায় বিভিন্ন প্রকাশনী থাকায় পাঠকের সামনে পছন্দের পরিসরও বড় হয়।
লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনস্থল
বায়তুল মোকাররমকে ঘিরে আয়োজিত বড় ইসলামী বইমেলাগুলো সময়ের সঙ্গে শুধু বই বিক্রির জায়গা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন আয়োজনে লেখক-পাঠক আড্ডা, আলোচনা সভা, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনও রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের মেলায় লেখক কর্নার, মিডিয়া কর্নার, শিশু চত্বর, তথ্যকেন্দ্র এবং নারীদের আলাদা বসার ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছিল।
ফলে পূর্ব গেটকে কেন্দ্র করে মেলা যখন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, তখন এটি এক অর্থে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের একটি বড় মিলনস্থলে পরিণত হয়।
পূর্ব গেটের সঙ্গে বায়তুল মোকাররমের আবহ
এই মেলার আরেকটি বিশেষত্ব হলো এর অবস্থান। এটি কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক প্রাঙ্গণের বইমেলা নয়; জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পরিবেশকে ঘিরে ইসলামী বই ও জ্ঞানচর্চার আয়োজন।
এ কারণেই একজন পাঠক বই দেখতে যাওয়ার পাশাপাশি মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেন, কিছু সময় বই পড়তে পারেন, নিজের জন্য প্রয়োজনীয় ইসলামী সাহিত্য সংগ্রহ করতে পারেন এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য উপকারী বই হাদিয়া হিসেবে কিনতে পারেন। রমাদানকেন্দ্রিক আয়োজনে এই পরিবেশের আবেদন আরও বাড়ে। ২০২৫ সালে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ চত্বরে রমাদান উপলক্ষে ইসলামী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে কুরআন, তাফসির, হাদিসসহ বিভিন্ন ইসলামী বিষয়ের বই পাওয়া যায়।
পূর্ব গেট: একটি ঠিকানার চেয়েও বেশি
বায়তুল মোকাররমের পূর্ব গেটকে তাই শুধু একটি গেট বা নির্দিষ্ট একটি স্টল এলাকার নাম হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যায় না। ইসলামী বইমেলার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটি বহু পাঠকের কাছে ইসলামী বই, প্রকাশনা ও জ্ঞানচর্চার একটি পরিচিত ঠিকানা হয়ে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রতি বছরের মেলায় স্টলের অবস্থান, প্রবেশপথ, মেলার বিস্তৃতি ও ব্যবস্থাপনা একই থাকে না। কোনো বছর মেলা শুধু দক্ষিণ চত্বরে হতে পারে, আবার কোনো বছর পূর্ব চত্বর বা পূর্ব গেটসংলগ্ন এলাকাও মেলার অংশ হতে পারে। যেমন ২০২৬ সালের রমাদান উপলক্ষে আয়োজিত মেলার সংবাদে মূল আয়োজন বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ চত্বরে হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট বছরের পূর্ব গেটের স্টল নম্বর বা মেলার সঠিক বিন্যাস জানতে হলে সেই বছরের অফিসিয়াল মেলা-তথ্য অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
ইসলামী বইমেলা
বায়তুল মোকাররমের পূর্ব গেট—একটি প্রবেশপথ, একটি পরিচিত স্থান, আর ইসলামী বইপ্রেমীদের কাছে বহু বছরের স্মৃতি ও বইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের এক পরিচিত নাম।